দুই বছরে নিরাপত্তা হেফাজতে আওয়ামী লীগের ৪৩ কর্মীর মৃত্যু

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ২৫৭টি৷ এরমধ্যে পুলিশ হেফাজতে ৩০ জন এবং কারা হেফাজতে ২২৭ জন মারা গেছেন৷ মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন বা এমএসএফ এই তথ্য দিয়েছে৷



মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ২৫৭টি৷ এরমধ্যে পুলিশ হেফাজতে ৩০ জন এবং কারা হেফাজতে ২২৭ জন মারা গেছেন৷


তাদের হিসেবে এই সময়ে পুলিশ ও কারা হেফাজতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৪৩ জন নেতা-কর্মী মারা গেছেন৷ এরমধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ জন৷ ২০২৫ সালে ২৪ জন৷ আর ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১৭ জন মারা গেছেন৷

মানবাধিকার কর্মী নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পুলিশ বা কারা হেফাজতে যেভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে তাতে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে৷ এটা আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না৷ 

বিশেষ করে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ হলো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী৷ এতে সন্দেহ আরো বেড়ে যাচ্ছে৷ আমাদের সন্দেহ তাদের আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের সময় বল প্রয়োগের ঘটনা ঘটতে পারে৷ আবার কারা হেফাজতেও বল প্রয়োগ ও চিকিৎসা না দেয়ার ঘটনা ঘটতে পারে৷ এগুলোর স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন৷’’


তবে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলিম ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘কারা হেফাজতে কেউ মারা যায় না৷ এরকম কোনো রেকর্ড নেই৷ কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে মারা যান৷ আর কারাগারে কোনো নির্যাতন বা চিকিৎসায় অবহেলার ঘটনাও ঘটে না৷’’
আর পুলিশ সদরদপ্তরের সহাকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেছেন, ‘‘পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনাই আমরা তদন্ত করি৷ সেটা রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত এলাকার থানা, যেখানেই ঘটুক না কেন৷ 

যদি কোনো নির্যাতনের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা নিই৷ আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ আছে তার কিছু অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়৷ তবে অনেক অভিযোগেরই সত্যতা মেলে না৷’’

নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান

মানবাধিকার সংগঠন এমএসএফ-এর সঙ্গে আরও দুটি মানবাধিকার সংস্থার পরিসংখ্যানে খুব বেশি তফাৎ নেই৷ 


আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশ ও কারা হেফাজতে মারা গেছেন ২১২ জন৷ এরমধ্যে পুলিশ হেফাজতে ২২ জন, আর কারা হেফাজতে মারা গেছেন ১৯০ জন৷ তবে এই মানবাধিকার সংগঠনটি হেফাজতে মারা যাওয়াদের রাজনৈতিক পরিচয় সংরক্ষণ করে না৷


আরেক সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) হিসাবে ওই একই সময়ে কারা ও পুলিশ হেফাজতে মোট মারা গেছেন ২৪৩ জন৷ এর মধ্যে গত ছয় সাসে কারাগারে মারা যাওয়া ৫৮ জনের রাজনৈতিক পরিচয় সংরক্ষণ করেছে সংগঠনটি৷ এর মধ্যে ১৫ জন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের, একজন বিএনপির এবং ৪২ জন সাধারণ কয়েদি৷


তবে এইচআরএসএস এর প্রধান নির্বাহী ইজাজুল ইসলাম মনে করেন, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি, কারণ তারা শুধু কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে পরিসংখ্যান তৈরি করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘কারা ও পুলিশ হেফাজতে আমরা মৃত্যুর যে হিসাব প্রকাশ করি তা সংবাদমাধ্যম থেকে নেয়া৷ 

আমাদের বিবেচনায় প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি৷ কারণ সংবাদমাধ্যমে সব খবর আসে না৷ আর আমরা তথ্য নিই নিদিষ্ট কিছু পত্রিকা থেকে৷ ফলে কিছু ঘটনা আমাদের হিসাবে আসে না৷ বাস্তবে পরিস্থিতি আরো খারাপ৷’’


ইজাজুল ইসলাম জানান কারা ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে৷ এর কারণ হলো গ্রেপ্তার ও আটকের সংখ্যা বাড়ছে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কাছে যে তথ্য তা হলো কারাগারে নেয়ার পর যে ধরনের অসুস্থতা থাকে তার যথাযথ চিকিৎসা হয় না৷ আটক ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকেও আমরা এই অভিযোগ পাই৷ ফলে তারা কারাগারে মারা যাচ্ছেন৷’’
এছাড়া গ্রেপ্তারের সময় নির্যাতন চালানো হয়, রিমান্ডে নিয়েও নির্যাতনের অভিযোগ আছে বলে জানান তিনি ৷

নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর কিছু অভিযোগ

গত ২১ জুন ফরিদপুরের মধুখালি পৌর এলাকার ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত উপজেলা ডিবি পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান বলে অভিযোগ৷ তাকে আগের দিন সকালে ডিবি আটক করেছিল৷ আটকের পর তিনি ডিবি হেফাজতেই ছিলেন ৷ রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়৷ সকালে তিনি মারা যান৷

প্রান্তর ভাই মির্জা পৃথিবী অভিযোগ করেন, ‘‘আমার ভাইকে আটকের পরপরই মারধর করা হয়৷ সেই মারধরের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়৷ তারা আমার ভাইকে নিয়ে তল্লাশির জন্য আমাদের বাসায়ও আসে৷ তখনও আমাদের সামনে মারধর করা হয়৷ পরে রাতে ডিবির সদস্যরা ফোনে আমাদের কাছে প্রথমে ৬০ হাজার এবং পরে এক লাখ টাকা চায়৷ তখন ফোনে আমার ভাই জানায়, তার মাথায়ও প্রচন্ড আঘাত করা হয়েছে৷ 

আর সকালে আমাদের ফোনে জানানো হয় আমার ভাইয়ের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ আমরা হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পাই আমার ভাই মারা গেছে৷’’ তিনি বলেন, ‘‘আমার ভাই সুস্থ সবল ছিলেন৷ তার কোনো শ্বাসকস্টের রোগ ছিল না৷ নির্যাতনের কারণেই সে মারা গেছে৷ আমরা এর প্রতিকার কার কাছে পাব!’’

প্রান্তর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, ‘‘ফরিদপুরে ছাত্রলীগের একজন সংগঠককে আটকের সময় আমরা যেভাবে নির্যাতন করতে দেখেছি, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে আমাদের সন্দেহ হয় যে, এরকম নির্যাতনের ঘটনা আরো ঘটেছে৷’’
তিনি বলেন, ‘‘এইসব ঘটনা প্রকাশ হলে তেমন কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হয় না৷ খুলনা সদর থানায় ২০১২ সালে একজন ছাত্রদল নেতাকে ঝুলিয়ে পিটানো হয়েছিল৷ 

তখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ পায়৷ কিন্তু পুলিশকে বদলি ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি৷ এখনো নেয়া হচ্ছে না৷’’

এদিকে, ১৩ মার্চ ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মারা যান বগুড়ার হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহনূর আলম শান্ত (৬০)৷ তাকে ৪ জানুয়ারি বগুড়ায় আটক করা হয়েছিল৷ এরপর ১৭ জানুয়ারি ঢাকার কেরাণীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছিল৷

২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা হারান শান্ত৷ এরপর থেকে তিনি কৃত্রিম পায়ে চলাফেরা করতেন৷ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অনেকটা আত্মগোপনে ছিলেন৷ গত ৪ জানুয়ারি বেলা ১২টার দিকে বগুড়া শহরের নারলী কৃষি ফার্মের কাছে বিউটি পার্লারে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি৷ সেই সময় কিছু লোক তাকে আটক করে মারধর করে৷ সদর থানা পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়৷ ওইদিনই বগুড়া জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনির সদর থানায় দায়ের করা নাশকতা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়৷

শান্তর স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, ‘‘আমার স্বামী ছিলেন পঙ্গু৷ তার একটি পা নেই৷ ঘটনার দিন মব সৃষ্টি করে তাকে আটক করে চরম মারধর করা হয়৷ আর এটা করে স্থানীয় বিএনপির লোকজন৷ তাকে আটকের পর আমি খবর পেয়ে থানায় ফোন করেছিলাম৷ কিন্তু থানা পুলিশ কোনো সহায়তা করেনি৷ মারধরের পর তারাই তাকে থানায় নিয়ে যায়৷ পুলিশ তাকে দুই-তিন দিন থানায় রেখে আরো নির্যাতন করে৷ এরপর মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়৷ প্রথমে বগুড়া জেলা কারাগারে৷

 কয়েকদিন পর তাকে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়৷ সেখানেই তিনি মারা যান৷’’
তার অভিযোগ, ‘‘আমার স্বামীর ডায়াবেটিস ছিল, তিনি হৃদরোগী ছিলেন না৷ আসলে তাকে নির্যাতনের পর কারাগারে কোনো চিকিৎসা দেয়া হয়নি৷ বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে৷’’
‘‘আমরা চেষ্টা করেছি বাইরের হাসপাতালে নিয়ে তাকে চিকিৎসা দিতে৷ কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি পাইনি,’’ বলেন তিনি৷

এর আগে বগুড়া কারাগারে থাকা পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতা মারা গেছেন৷ তারা হলেন, গাবতলীর দক্ষিণপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক ওরফে ভুট্টু (৫২), গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল মতিন মিঠু (৬৫), জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত আলম ঝুনু(৫৭), শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুল লতিফ (৬৭) এবং বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রতন (৫৮)৷

বগুড়া জেলা কারাগারের জেল সুপার আসাদুর রহমান বলেন, ‘‘এরমধ্যে পাঁচটি মৃত্যুর ঘটনা আমি এখানে যোগদান করার আগে৷ আমি পাঁচ মাস হয় এসেছি৷ এরমধ্যে মাত্র একজনের মৃত্যু হয়েছে৷ তাও আমাদের এখানে নয়৷ আমরা তাকে এখান থেকে কেরাণীগঞ্জ কারাগারে পাঠিয়েছিলাম৷ তার হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে৷’’
‘‘আর বাকি পাঁচজনের মত্যুর কারণ একই৷ তারা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান,’’ বলেন তিনি৷
জেল সুপার বলেন, ‘‘কারাগারে কাউকে নির্যাতন করা হয়নি৷ আর অসুস্থ হলে আমরা চিকিৎসার কোনো ত্রুটি করি না৷’

ঢাকার মতিঝিল থানা এলাকার আট নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী সুলতান মিয়া কারা হেফাজতে মারা যান চলতি বছরের ৪ মে ৷ ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর তাকে আটক করা হয়েছিল৷ তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, ‘‘তাকে যখন গ্রেপ্তার করা হয় তখন তার বিরুদ্ধে কোনো মামলাই ছিল না৷ 

এরপর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মোট পাঁচটি মামলা করা হয়৷ এই মামলাগুলো করা হয় তাকে কারাগারে আটক রাখার জন্য৷ একটি মামলায় জামিন হলে আরেকটি মামলা দেয়া হতো৷ এভাবেই চলছিল৷ এমনও হয়েছে জামিনের পর তাকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেয়ার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে৷ আমরা তাকে নিয়ে আসার জন্য গাড়ি নিয়ে কারা ফটকে গিয়েছি, ঠিক তখনই তাকে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে৷ কিন্তু শেষে কারাগারে স্ট্রোক করলে তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ সেখানেই তিনি মারা যান৷’’

‘‘কারাগারে তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি৷ আমরা তাকে নিয়মিত ওষুখপত্রও দিতে পারতাম৷ তবে বয়সের কারণে তিনি নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন৷ কারাগারে তিনি তিনবার স্ট্রোক করেছেন৷ তাকে কারাগারের ভিতরে আলাদা রান্না করে খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করেছিলাম৷ এজন্য আমাদের অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে৷ টাকা দিয়ে তাকে আমরা কারাগারেই ভালো রাখার ব্যবস্থা করেছিলাম,’’ বলেন তিনি৷

নারায়ণগঞ্জ ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির ১৩ জানুয়ারি কারাবন্দি অবস্থায় মারা যান৷ ১৮ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মামলায় তাকে আটক করা হয়েছিল৷ তার খালাতো ভাই আনিসুর রহমান জুয়েল বলেন, ‘‘তার বয়স ষাট বছরের বেশি হবে৷ তাকে যখন আটক করা হয় তখনই তিনি অসুস্থ ছিলেন৷ তিনি হৃদরোগসহ নানা রোগে ভুগছিলেন৷ চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলছিলেন৷ কিন্তু কারাগারে নেয়ার পর তার ঠিক মতো চিকিৎসা চলছিল না৷’’
‘‘১২ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ কারাগারে তিনি হৃদরোগে গুরুতর আক্রান্ত হলে ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেয়া হয় এবং পরদিন সকালে তিনি মারা যান,’’ বলেন তিনি৷

ভাইয়ের মৃত্যুর আশঙ্কায় বোন

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের বোন আজমে আরা বেগমের আশঙ্কা, তার ভাই নিরাপত্তা হেফাজতে মারা যেতে পারেন৷ ডাবলু সরকারকে আটক করা হয় ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর৷ এপর্যন্ত হত্যাসহ ২৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ রিমান্ডে নেয়া হয়েছে ৭০ দিন৷ বারবার কারাগার পরিবর্তন করে তাকে এখন কাশিমপুর কারাগারে রাখা হয়েছে৷ গত দুই বছরে কোনো মামলায়ই তার জামিন মেলেনি৷ আবার কোনো মামলায়ই তার বিচারকাজ শেষ হয়নি৷ 

তার পরিবারের অভিযোগ, তাকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে ও রিমান্ডে নিয়ে দফায় দফায় নির্যাতন করা হয়েছে৷ তিনি কারাগারে কয়েকবার গুরুতর অসুস্থও হয়ে পড়েন৷ পরিবারের লোকজনকে তেমন দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না৷ আর কারাগারের বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসার আবেদনও গ্রহণ করা হচ্ছে না৷

 ডাবলু সরকারের বোন আজমে আরা বেগম জানান, ‘‘তার সঙ্গে পরিবারের লোকজনকেও তেমন দেখা করতে দেয়া হয় না৷ আগে কারাগার থেকে টেলিফোনে কথা বলতে পারত৷ এখন সেই সুযোগও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ নির্যাতন ছাড়াও তিনি এখন নানা রোগে আক্রান্ত৷ তার শরীর ভেঙে পড়েছে৷ তিনি কারাগারে তেমন কোনো চিকিৎসা পাচ্ছেন না৷ আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে কারাগারে তিনি বিনা চিকিৎসায় মারা যাবেন৷’’

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলিম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কারা হেফাজতে কেউ মারা যায় না৷ এরকম কোনো রেকর্ড নেই৷ কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে মারা যান৷ আর কারাগারে কোনো নির্যাতন বা চিকিৎসায় অবহেলার ঘটনাও ঘটে না৷ অনেকেই আছেন যাদের অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে পাঠানো হয়৷ তারা নানা রোগে আগে থেকেই ভুগছেন৷ তারপরও প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত হয়৷’’

তিনি বলেন, ‘‘গত দুই বছরে কারা হেফাজতে কোনো অবহেলা, চিকিৎসার অবহেলা বা নির্যাতনে কেউ মারা যায়নি৷ কারাগারে নির্যাতন ও চিকিৎসায় অহেলার প্রশ্নই ওঠে না৷ আমি চ্যালেঞ্জ করছি কারুর কাছে প্রমাণ থাকলে তা নিয়ে আসুক৷’’

এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ‘‘কারাগারে কোনো বন্দির রাজনৈতিক পরিচয় আমাদের কাছে বিবেচ্য নয়৷ আমরা তাকে বন্দি হিসাবেই দেখি৷’’

এদিকে, পুলিশ সদরদপ্তরের সহাকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘‘পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনাই আমরা তদন্ত করি৷ সেটা রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত এলাকার থানা যেখানেই ঘটুক না কেন৷ যদি কোনো নির্যাতনের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা নিই৷ আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ আছে তার কিছু অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়৷ তবে অনেক অভিযোগেরই সত্যতা মেলে না৷’’

তিনি বলেন, ‘‘পুলিশের পক্ষ থেকে মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়৷ আমরা কোনো আসামিকে রাজনৈতিকভাবে দেখি না৷ তাদের সুনির্দিষ্ট মামলায় আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়৷’’


Post a Comment

46 Comments

  1. The value of life transcends political identity. Every death in custody or detention should be subject to an impartial, transparent and credible investigation. Justice, the rule of law and respect for human rights are the foundations of a democratic state. May the truth be revealed, those responsible be held accountable and may such incidents not happen again in the future—this is our hope.
    জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ✊✊

    ReplyDelete
  2. একদম সত্যি কথা

    ReplyDelete
  3. প্রতিটি হত্যাকান্ডের বিচার বাংলার মাটিতে হবে ইনশাআল্লাহ
    জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

    ReplyDelete
  4. দূক্ষাই গুঞ্জনAugust 31, 2026 at 10:31 PM

    প্রতিটি পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য আওয়ামী লীগ কাজ করবে ইনশাআল্লাহ

    ReplyDelete
  5. রূপগঞ্জ উপজেলা যুবলীগAugust 31, 2026 at 10:32 PM

    জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু জয় বাংলা সৈনিকেরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না মরলে বীরের মতো মরবো বাঁচলে বীরের মতো বাঁচবো আমরা জয় বাংলা সৈনিক

    ReplyDelete
  6. প্রতিটি জেল হত্যার তদন্ত করতে হবে এবং বিচার করতে হবে।

    ReplyDelete
  7. এফএম রিগ্যান আহমেদ ফাহাদAugust 31, 2026 at 10:38 PM

    আগুনের দিন শেষ হবে একদিন☝️
    জেলখানায় শহীদ,দেশপ্রেমিক বীরদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও দোয়া রইল।
    জয় বাংলা ✊✊

    ReplyDelete
  8. ইনশাআল্লাহ প্রতিটা হত্যাকান্ডের বিচার হবে এই মাটিতে শুধুই সময়ের অপেক্ষ

    ReplyDelete
  9. আরোও বেশী হবে।।
    সঠিক তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছি

    ReplyDelete
  10. জয় বাংলা

    ReplyDelete
  11. তুমি কে আমি কে বাঙালি, বাঙালি
    কে বলেছে মুজিব নাই,, মুজিব সারা বাংলায়
    জয় বাংলা ________

    ReplyDelete
  12. নিয়ন চৌধুরীAugust 31, 2026 at 10:39 PM

    বিচারবহির্ভূত সকল হত্যাকান্ডের বিচার একদিন হবে এই বাংলার মাটিতে। ✊

    ReplyDelete
  13. Påřvëz MøšhåřøfAugust 31, 2026 at 10:40 PM

    ভয়ংকর প্রতিশোধ নিবো ইনশাআল্লাহ জয় বাংলা

    ReplyDelete
  14. মোঃ বিশাল আহাম্মেদAugust 31, 2026 at 10:41 PM

    এটা পরিকল্পিত হত্যা

    ReplyDelete
  15. আপনারা বিদেশেই থাকেন,আর কি বলব। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

    ReplyDelete
  16. পাবলিক বুঝে গেছে দেশ জংলিদের হাতে

    ReplyDelete
  17. দুই বছর পর ঠিক একই নিউজ হবে,
    শুধু আওয়ামীলীগের নামটা পাল্টে যাবে।
    যে খেলা আপনারা শুরু করেছেন সেটার শেষ পেরেক আমরাই ঠুকবো

    ReplyDelete
  18. তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলতে চাই দেশবাসী ভালো নেই শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে 🇧🇩❤️

    ReplyDelete
  19. সব পরিকল্পনার অবসান ঘটবে ইনশাআল্লাহ

    ReplyDelete
  20. ইনশাআল্লাহ এর বিচার একদিন হবে হবে।

    ReplyDelete
  21. সকল জেল হত্যার বিচার চাই।
    সকল রাজবন্দিদের মুক্তি চাই।

    ReplyDelete
  22. মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদেরকে বেহেশত নসীব করুক (আমিন)
    সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার চাই

    ReplyDelete
  23. বিচার হবে ইনশাআল্লাহ

    ReplyDelete
  24. বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যাবর্তন এর মধ্যে দিয়ে। আগামী দিনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করা মধ্যে দিয়ে সকল জেলহত্যার বিচার, একদিন না একদিন এই বাংলার মাটিতে অবশ্যই করা হবে ইনশাআল্লাহ।
    জয় বাংলা
    জয় বঙ্গবন্ধু✊

    ReplyDelete
  25. প্রতিটি হত্যার বিচার বাংলার মাটিতে হবে ইনশাআল্লাহ।

    ReplyDelete
  26. মাহাদী হাসানAugust 31, 2026 at 10:53 PM

    সবকিছুর হিসাব এবং বিচার হবে ইনশাআল্লাহ

    ReplyDelete
  27. ইনশাআল্লাহ বিচার হবে এই বাংলার মাটিতে।জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

    ReplyDelete
  28. প্রতিটি জেলহত্যার বিচার করতে হবে 🇧🇩

    ReplyDelete
  29. ইন শা আল্লাহ একদিন সব কিছুর বিচার হবে 😔
    জয় বাংলা ✊🇧🇩

    ReplyDelete
  30. হিসাব তো একদিন দিতেই হবে, সুদে আসলে মিটানো হবে ইনশাআল্লাহ

    ReplyDelete
  31. Rafiqul Islam ParvejAugust 31, 2026 at 10:55 PM

    এগুলোর বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে ইনশাআল্লাহ।

    ReplyDelete
  32. কারা নির্যাতিতAugust 31, 2026 at 10:56 PM

    জয় বাংলা

    ReplyDelete
  33. বাংলা দেশ সরকার শেখ হাসিনা দরকার

    ReplyDelete
  34. Mehedi Hasan SorowerAugust 31, 2026 at 11:10 PM

    তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই

    ReplyDelete
  35. মন রেখো বাংলাদেশ প্রত্যেকটি হত্যাকান্ডের বিচার হবেই জয় বাংলা

    ReplyDelete
  36. এ-ই বিচার বাংলার মাটিতে একদিন হবে, ইনশাআল্লাহ

    ReplyDelete
  37. এদের বিচার বাংলার মাঠিতে হবে ইনশাআল্লাহ

    ReplyDelete
  38. মোঃ মোস্তফা কামাল খানAugust 31, 2026 at 11:11 PM

    তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই

    ReplyDelete
  39. এর কঠিন বিচার বাংলার মাটিতে হবে ইনশাআল্লাহ।

    ReplyDelete
  40. তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই

    ReplyDelete
  41. সবই পরিকল্পিত হত্যা

    ReplyDelete
  42. বাংলার মাটিতে এর কঠিন বিচার দেখতে চাই

    ReplyDelete
  43. জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু!

    ReplyDelete
  44. Nuruzzaman Khan KhanAugust 31, 2026 at 11:12 PM

    তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি

    ReplyDelete
  45. এস এম সামছুদ্দিন আহমেদAugust 31, 2026 at 11:13 PM

    ইতিহাস সবকিছু মনে রাখে একদিন এর বিচার বাংলার মাটিতে হবে ইনশাল্লাহ

    ReplyDelete
  46. Md Sujon Islam SozolAugust 31, 2026 at 11:13 PM

    ইনশাআল্লাহ, হিসাব একদিন দিতে হবে

    ReplyDelete