যারা ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেছিল, ৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, আজ তারাই ইতিহাসের খুনি-রাজাকারদের ‘শহীদ’ বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে
--------------বিএনপি- জামায়তের ইতিহাসকে বিকৃত করার রাজনীতি নতুন কিছু না। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর হলো, যখন রাজাকার রাজনীতির উত্তরসূরীরা নিজেদের অতীত লুকাতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করে।
আজ যারা আব্দুল মালেককে “শহীদ” বানিয়ে তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের আগে ইতিহাসের আয়নায় নিজেদের মুখ দেখা উচিত। আব্দুল মালেক ছিল তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মী, যে সংগঠন ছিল আইয়ুব-ইয়াহিয়ার শাসনের পক্ষে এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থানকারী শক্তি। সেই ছাত্রসংঘই পরবর্তীতে নাম পাল্টে ইসলামী ছাত্রশিবির হয়।
তখনকার উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন বানচাল করতে গিয়ে সংঘর্ষে নিহত হয় মালেক। অথচ আজ তাকে “শহীদ” বানিয়ে ইতিহাসকে উল্টে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশ্ন হলো, যারা বলে “৭১ সালে ছাত্রশিবির ছিল না”, তারা আবার কিভাবে সেই ছাত্রসংঘের কর্মী মালেককে নিজেদের আদর্শিক শহীদ হিসেবে তুলে ধরে?
বাস্তবতা হলো, ১৯৭১ সালে জামায়াত ও তাদের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লারা পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হয়ে গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন করে। আলবদর বাহিনী গঠন করে নিজামী। অথচ আজ সেই নিজামী, আজহার, গোলাম আজমদের এরা “মজলুম” বানায়, আর ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা তোফায়েল আহমেদকে “খুনি” বলে!
এই দ্বিচারিতা শুধু রাজনৈতিক না, এটা আদর্শিক প্রতারণা।
ইতিহাস সাক্ষী, ৮০-এর দশক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাস, ব্রাশফায়ার, খুন, ম্যানহোলে লাশ ফেলে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা বহুবার ঘটেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাবি, রাবি সব জায়গার রক্তাক্ত ইতিহাস এখনো মানুষের স্মৃতিতে আছে। অথচ সেই ইতিহাস আড়াল করে আজ তারা নিজেদের “নির্যাতিত” সাজানোর নাটক করছে।
সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, এরা সবসময় নিজেদের অপরাধীদের “শহীদ” আর অন্যদের “খুনি” বানানোর এক অদ্ভুত রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করেছে। রাজাকারদের নিয়ে কান্নাকাটি করবে, যুদ্ধাপরাধীদের বীর বানাবে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা মানুষদের বিরুদ্ধে বিষ ছড়াবে।
তোফায়েল আহমেদ ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তাই রাজাকার রাজনীতির উত্তরসূরীদের চোখে তিনি কখনোই গ্রহণযোগ্য হবেন না। কারণ তাদের রাজনীতি সবসময় স্বাধীন বাংলাদেশবিরোধী চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, আজও এই দেশকে সেই রাজাকার আদর্শের উত্তরসূরীদের বিষাক্ত প্রচারণা সহ্য করতে হচ্ছে। যারা একসময় বাংলাদেশ চায়নি, আজ তারাই ইতিহাসের মালিক সাজার অভিনয় করছে।
কিন্তু ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। সত্য শেষ পর্যন্ত সত্যই থাকে

51 Comments
ইসলাম প্রেমি আব্দুল মালেক।
ReplyDeleteউনি বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মধ্যে একজন এবং মুসলমানদের বীর পুরুষ ।
এম এইচ আরিফ চৌধুরী গণপিটুনিতে বলৎলকারকারী মালেক নিহত হয়েছিল যতটুকু জানি।
Deleteএটা কি সত্যি
শহীদ মালেক আমাদের প্রেরণার বাতিঘর।
ReplyDeleteশাহীদ আব্দুল মালেক হওয়া আমাদের আজীবনের স্বপ্ন 💖💝
Jameul Hasan শহীদ আব্দুল মালেক হয়ে যাও ভাই পাকি বীজ ।
Deleteআমরা তো মালেকের কাফেলার সাথে যে মালেক আমাদের প্রেরণার বাতি
ReplyDeleteআমাদের বীর শহিদ আব্দুল মালেক (রাহিঃ)
ReplyDeleteমানুষের হৃদয়ে থেকে যাবে জনম জনম ধরে
Mahadi Hasan Soaib ওরে ব্যাটা বীর শহীদ না, বল ৭১ এর বীরশ্রেষ্ঠ ।
Deleteশহীদ আব্দুল মালেক বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান।
ReplyDeleteসত্য তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ
ReplyDeleteছাত্রনেতা আব্দুল মালেক
ReplyDeleteশহীদ মুজিবন্দ্রনাথ ঠাকুর।
ReplyDeleteরাজাকার হত্যা করা দেশপ্রেমের অংশ, আর দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। রাজাকার হত্যা করার জন্য তোফায়েল আহমেদকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুক, আমিন।
ReplyDeleteহে আল্লাহ আব্দুল মালেক ভাইকে জান্নাতুল মাকাম দান করুক। কুরআনী মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীনের ইরশাদ করেন তোমাদের অপকর্মকে দুনিয়া এবং আখেরাতে উভয় তার প্রতিদান দেয়া হবে
ReplyDeleteমরহুমকে তাঁর আমল অনুযায়ী কবরে প্রতিদান দেওয়া হোক,,,
ReplyDelete৭১ দেখি নাই,তবে তোফায়েল ২৪ এর খুনি না এটা চ্যালেঞ্জ কর?!
ReplyDeleteJubair Hossain ২৪ কারা করেছে এখন জনগনের কাছে পরিস্কার। এটা ঐ ৭১ এর পরাজিত পক্ষেই একটা কাজ
Deleteবুদ্ধিজীবীদের কে হত্যা করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী
ReplyDeleteশহীদ আব্দুল মালেক কে জান্নাতুল ফেরদৌস এর মেহমান হিসেবে কবুল করুক, খুনি তোফায়েল এর বিচার ঠিক ঠাক মতো করুন
ReplyDelete১৫ আগস্টে দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা সেনাবাহিনীদের কাজ বানচাল করতে গিয়ে মুজিব মারা যায়। সেটাকে লিগের লোকজন হত্যাকাণ্ড বলে চালাচ্ছে এবং গণশত্রু মুজিবকে শহিদ হিসেবে তুলে ধরতে চায়
ReplyDeleteশহীদ মালেক আমাদের প্রেরণার বাতিঘর।
ReplyDeleteবাংলাদেশের এই জমিনে আওয়ামী লীগের দোসোরদের কোনো ঠাই হবে না
ReplyDeleteশহীদ আব্দুল মালেক
জিন্দাবাদ
১৯৭৫ সালের সেইসব মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করছি যারা দেশকে বাকশালার হাত থেকে মুক্তি দিয়েছিল। তারাই আসল এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা।
ReplyDeleteমালেক হওয়া আমাদের আজীবনের স্বপ্ন
ReplyDeleteশহীদ মালেক বাংলার বীর শহিদ
ReplyDeleteশহীদ মালেক
ReplyDeleteইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের প্রবক্তা শহীদ আব্দুল মালেক দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হবেন।আর তার খুনিরা ঘৃণা ও অভিশপ্ত হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন এবং নেবেন ইনশাআল্লাহ ।
ReplyDeleteআওয়ামীলীগ ❌
ReplyDeleteসন্ত্রাসী ✅
ইতিহাস বিক্রেতা ✅
Md Abu Talha আসছে আমার চনুর মাথা।
Deleteআজকে থেকে মাটির নিছে ফেরেশতাদের সাথে মুক্তি যুদ্ধ করবে,জয় বাংলা এবং সংবিধানের চার মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করবে, এতদিন মাটির উপরে রাজা কার দের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছিল
ReplyDeleteﷴ عَرِيْفُ الدِّيْنِ
ReplyDeleteপরাজিত শক্তি আওয়ামী লীগ
নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায় বিচারক 👍
ReplyDeleteএত বিচলিত হওয়ার কোন কারণ নেই
আপনাদের সমস্ত ইতিহাস সত্য বাকি সবাই মিথ্যা ।।
ReplyDeleteরাজাকার কখনো শহীদ হতে পারে না
ReplyDeleteঅবশ্যয় তিনি শহিদ
Deleteআল্লাহ বিচার সঠিক
ReplyDeleteমহান রব তোদের উপর আরো গজব দিক।
ReplyDeleteআব্দুল মালেক কে হত্যা করেছিল শুধু মাত্র ঢাকা বিশব্বিদ্যালয়ে একটা চমৎকার ইসলামি শিক্ষা এর গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরার জন্য।
ReplyDeleteএটাই ইতিহাস...
শহীদ আব্দুল আমাদের প্রেরণা। আমিলিগের আব্বা শেখ মুজিব ও এই হত্যাকান্ডে নিন্দা জানাইছিল। ইতিহাস বিকৃতি করা মহা অন্যায়।
ReplyDeleteলাখো তরুণের আলোর বাতিঘর শহীদ আবদুল মালেক..... রক্ষী বাহিনীর চীফ অফ কমান্ড খুনি তোফায়েল যার নেএীত্বে ৪০ হাজার নিরপরাধ মানুষ হত্যার কালো ইতিহাস রচিত হয়।
ReplyDelete১৯৬৯ সালে ১২ আগস্ট দেশ প্রেমিক ছাত্র সমাজের গণপিটুনির শিকার হয়ে ১৫ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন দেশদ্রোহী আব্দুল মালেক। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন।
ReplyDeleteআত্মস্বীকৃত পাকিস্তানের দালাল গোলাম আজমের লেখা পড়েছি,সেখানে গণপিটুনির উল্লেখ রয়েছে।
গোলাম আজম কি তাহলে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন ? নিশ্চয়ই তিনি সত্যি বলেছেন। এই লোকটা গণপিটুনির শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল।
শহিদ আব্দুল মালেক রহঃ
ReplyDeleteশহীদ মালেক আমাদের প্রেরণার বাতিঘর।
ReplyDeleteতোফায়েল আহমেদ একজন খুনি
আল্লাহ উত্তম বিচার করুন।
তার কবরকে জাহান্নাম বানিয়ে দিক।
যারা জুলাই তে মানুষ হত্যা করছে তাদের কোন কথা নেই
ReplyDeleteআন্দোলন বানচাল করতে গিয়ে সংঘর্ষে নিহত হয় আব্দুল মালেক!
ReplyDelete৩২ নাম্বারে কার সাথে সংঘর্ষে নিহত হয় মুজিব?
উত্তর সহজ করেন আপা।
দল যার যার,,,
ReplyDeleteলীগ পিটানোর দায়িত্ব সবার,,,,,
এতো সুন্দর করে মিথ্যা লিখেছে। যে কেও এটা পড়লে মনে করবে এটা সত্যি, তবে এটা মিথ্যাচার আর অপবাদ।
ReplyDeleteরাজাকার হত্যা করা দেশপ্রেমের অংশ
ReplyDeleteগণআন্দোলনে দখল করতে হবে ঢাকা সহ সারাদেশ। ঢাকায় উড়বে বীজয়ের পতাকা। তারপর জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে আসবে। ইনশাআল্লাহ। জয় বাংলা।
ReplyDeleteআল্লাহ তায়ালা শহীদ আবদুল মালেক (রাঃ) জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মোকাম দান করুক, আমিন,
ReplyDeleteযারা উনাকে হত্যা করেছে তাদের কে ফেরাউন নমরূদ এর মতো লাঞ্ছিত করে দুনিয়া থেকে চির বিদায় করুক,
ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার উপর হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য দেওয়ার কারণেই শহীদ আব্দুল মালেককে হত্যা করা হয়।।
ReplyDeleteরাইট নেতাদের বক্তব্য ধন্যবাদ ২০২৪ ইতিহাস বাংলাদেশের বিকৃত ইতিহাস, সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠান একটি চক্র বাংলাদেশে এখনো রয়ে গেছে
ReplyDelete