রূপপুর পরমাণু বিপ্লবের রূপকার ও নিরহংকারী নক্ষত্র ড. ওয়াজেদ মিয়া
​-- মানিক লাল ঘোষ

​বরণীয়, স্মরণীয় আর অনুকরণীয় মানুষের সংখ্যা বর্তমান সময়ে ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া, হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ আর আত্মঅহমিকা যখন আমাদের মনমানসিকতাকে ক্রমাগত গ্রাস করছে, তখন সমাজের প্রচলিত ধারার বিপরীতে এক নির্লোভ ও নিরহংকারী মানুষের প্রতিচ্ছবি ছিলেন বরেণ্য পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া। ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থেকেও তিনি ছিলেন অতি সাধারণ এক মানুষ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জামাতা এবং প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার স্বামী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনোই ক্ষমতার মোহ বা প্রভাব ব্যবহার করেননি। বরং আজীবন নিভৃতে থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

​ড. ওয়াজেদ মিয়ার বিজ্ঞান চর্চা ও দেশপ্রেমের সবচেয়ে বড় স্মারক হয়ে থাকবে বাংলাদেশের 'রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র' প্রকল্প। আজ রূপপুর আমাদের কাছে কোনো স্বপ্ন নয়, বরং এক দৃশ্যমান বাস্তবতা। এই প্রকল্পের পুনরুজ্জীবন এবং পরমাণু বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় তার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৯৭ সালে আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি এই থমকে যাওয়া প্রকল্পটিকে নতুন করে সচল করার কারিগরি ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একজন দূরদর্শী বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি অনুধাবন করেছিলেন যে, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারমাণবিক শক্তির বিকল্প নেই। তার সেই নীরব ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই আজ বাংলাদেশ বিশ্বের 'নিউক্লিয়ার ক্লাব'-এর সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

​১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জের ফতেহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই বিজ্ঞানী নিজের মেধা দিয়ে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশকে গর্বিত করেছেন। রংপুর জিলা স্কুল ও রাজশাহী কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি এবং লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। মেধার চর্চায় যেমন নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তেমনি ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন রাজনৈতিকভাবে সচেতন। ছাত্রলীগের মনোনয়নে তিনি ফজলুল হক হলের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য এই মানুষটি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর চরম ঘাত-প্রতিঘাতের শিকার হন। স্ত্রী শেখ হাসিনা ও সন্তানদের নিয়ে জার্মানিতে নির্বাসিত জীবনে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি বিজ্ঞান চর্চা থেকে বিচ্যুত হননি। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তার সাহসী কারাবরণের ইতিহাস আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়।

​বিজ্ঞানের পাশাপাশি লেখক হিসেবেও ড. ওয়াজেদ মিয়া গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার লেখা বিজ্ঞানভিত্তিক গ্রন্থগুলো আজ বিশ্বের বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যবই হিসেবে পড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা এবং বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকারের চালচিত্র নিয়ে তার লেখা গ্রন্থগুলো ইতিহাসের মূল্যবান দলিল। তার এই চারিত্রিক সততা, দেশপ্রেম আর নির্লোভ থাকার শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে তার সন্তানদের মাঝেও। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আন্তর্জাতিক অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আজ নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, যা মূলত ড. ওয়াজেদ মিয়ারই পারিবারিক শিক্ষার ফসল।

​২০০৯ সালের ৯ মে এই মহান কর্মবীরের জীবনাবসান ঘটে। নিজের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পীরগঞ্জের নিভৃত পল্লীতে বাবা-মায়ের কবরের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়। দেশের পরমাণু বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় এবং একটি আদর্শবাদী জীবন গঠনে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার জীবনাদর্শ আগামী প্রজন্মের কাছে চিরকাল অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

​( মানিক লাল ঘোষ : সাংবাদিক ও কলামিস্ট। সাবেক সহ-সভাপতি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন -ডিইউজে ) 

Post a Comment

36 Comments

  1. আলোচনায় না থাকলেও তিনি প্রশংসার দাবিদার

    ReplyDelete
  2. বিনম্র শ্রদ্ধা এবং মরহুম এম ওয়াজেদ মিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

    ReplyDelete
  3. তিনি হচ্ছেন এর প্রধান উদ্যোক্তা তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে আর জনগণের উপকার হবে।

    ReplyDelete
  4. জয় বাংলা'র সৈনিক,নৌকার কিংবদন্তিMay 18, 2026 at 12:25 AM

    জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু।

    ReplyDelete
  5. বিন্ম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

    ReplyDelete
  6. বিনম্র শ্রদ্ধা

    ReplyDelete
  7. Amjad Hussain BiplobMay 18, 2026 at 12:28 AM

    বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ্ তাকে যেনো বেহেশতের নসিব দান করেন। আমিন

    ReplyDelete
  8. বিনম্র শ্রদ্ধা সাথে স্মরণ করছি

    ReplyDelete
  9. বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আমিন

    ReplyDelete
  10. Sahadat Hossain NipuMay 18, 2026 at 12:28 AM

    গভীর শ্রদ্ধা

    ReplyDelete
  11. ওয়াজেদ মিয়াকে অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

    ReplyDelete
  12. আল্লাহ উনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন

    ReplyDelete
  13. জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

    ReplyDelete
  14. হাসিনা তার মুখে কখনোই কোনোদিন তার স্বামীর নাম বলেনি প্রশংসা করেনি

    ReplyDelete
  15. We salute him

    ReplyDelete
  16. অনেক অনেক দোয়া রইল

    ReplyDelete
  17. মহসিন পন্ডিতMay 18, 2026 at 12:30 AM

    লাল ছালাম আপনাকে

    ReplyDelete
  18. বিনম্র শ্রদ্ধা!
    জয় বাংলা

    ReplyDelete
  19. Zashim Uddin MahmudMay 18, 2026 at 12:31 AM

    বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

    ReplyDelete
  20. বিনম্র শ্রদ্ধা -
    অথচ তিনি যেদিন মৃত্যুবরণ করলেন সেদিন সংসদে এক মিনিট নিরবতা তো দুরের কথা তার মৃত্যু সংবাদ তার স্ত্রীও তেমন কর্ণপাত করেনি।

    ReplyDelete
  21. আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুক

    ReplyDelete
  22. এটাই সত্য

    ReplyDelete
  23. প্রথম ভালোবাসাMay 18, 2026 at 12:32 AM

    আল্লাহ বেহেশত নসীব করুন।

    ReplyDelete
  24. Md Shakhaowth HossainMay 18, 2026 at 12:33 AM

    বিনম্র শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং দোয়া রইল স্যারের জন্য।

    ReplyDelete
  25. Jahangir Hossain MukulMay 18, 2026 at 12:33 AM

    বিনম্র শ্রদ্ধা

    ReplyDelete
  26. গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি
    জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

    ReplyDelete
  27. রুপপুর তারেক রহমান উন্নয়ন

    ReplyDelete
  28. আবুল হাশেম শোভাMay 18, 2026 at 12:34 AM

    হৃদয়ের গভীর থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা এবং দোয়া।।

    ReplyDelete
  29. Sekendar Hosain SajeebMay 18, 2026 at 12:34 AM

    জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

    ReplyDelete
  30. গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি 🇧🇩🇧🇩🇧🇩

    ReplyDelete
  31. MD Kamrul Hasan RubelMay 18, 2026 at 12:35 AM

    গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করছি

    ReplyDelete
  32. শেখ হাসিনা সরকার বার বার দরকার

    ReplyDelete
  33. জয় বাংলা

    ReplyDelete
  34. আমিনুর মিয়া আমিনুর মিয়াMay 18, 2026 at 12:35 AM

    জয় বাংলা

    ReplyDelete
  35. আলহামদুলিল্লাহ
    জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

    ReplyDelete
  36. অতল বিনম্র শ্রদ্ধা।।

    ReplyDelete