খুলি যেখানে তার হারানো গল্প বলে : জামালপুরে ইতিহাসের পঁচে যাওয়া পুনরাবৃত্তি
স্কুলব্যাগ। ছোট, নিরীহ দেখতে একটা ব্যাগ। সেটাই হঠাৎ হয়ে উঠলো জাতীয় আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দু। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পরিত্যক্ত এক স্কুলব্যাগে পাঁচটি মানুষের খুলি আর হাড়গোড় পাওয়া গেছে। এই আবিষ্কার, এর স্থান-কাল-পাত্র, সবকিছু মিলে ঘটনাটি যেন শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়—বরং বাংলাদেশের রাজনীতির গোপন, রক্তাক্ত শিরা-উপশিরা ছুঁয়ে যাচ্ছে।
এটাই কি প্রথমবার? না। বরং এটা যেন সেই পুরোনো কাহিনিতে নতুন দৃশ্যপটের সংযুক্তি। যেখানে লাশ থাকে, খুলি থাকে, কিন্তু দায় কেউ নেয় না। শোক থাকে, প্রমাণ থাকে, কিন্তু বিচার থাকে না। কেবল থাকে রাজনৈতিক দখলের এক নোংরা অভিনয়, যার পেছনে ইতিহাসের রক্তমাখা ছায়া।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে "জুলাই দাঙ্গা" এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। যতটা ভয়াবহ শোনায়, বাস্তবে এর দায়-দায়িত্ব, উৎস, সংগঠন, সবকিছুই অস্পষ্ট, গোলমেলে, পক্ষপাতদুষ্ট। অথচ এর চর্চা, এর ব্যবহার, এর স্মৃতি—সবই নিখুঁতভাবে একপাক্ষিক।
এই দাঙ্গা হঠাৎ করে যেন এক রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়—একটি তালিকা তৈরি হয় "শহীদদের", যাদের পরিচয়ও গুলিয়ে ফেলা হয়, বহু 'নিখোঁজ' পরে ফিরে আসে, আর বহু নাম সেই লিস্টে ঢোকানো হয় যাদের খোঁজ আজও মেলে না।
এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো—জামালপুরের এই স্কুলব্যাগে পাওয়া খুলি ও হাড়গোড় যেন সেই তালিকারই কোনো অন্ধকার পুনরাবৃত্তি।
যিনি আজ ক্ষমতার চূড়ায় বসে আছেন—মোহাম্মদ ইউনুস—তিনি কি জানেন না এই লাশের গল্প? নাকি জানেন বলেই গল্পটাকে প্রপাগান্ডায় রূপ দিয়েছেন? ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে, সিরাজউদ্দৌলাকে হটিয়ে বৃটিশরা যা করেছে, কিংবা ইরাকে মার্কিন বাহিনী যা করেছে, সেটিই আজকের বাংলাদেশে প্রয়োগ করছেন ইউনুস ও তাঁর এনসিপি-জামায়াত জোট।
"শান্তির মানুষ" হিসেবে পরিচিত কেউ এমন কৌশলে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন, যা শুরু হয় জনতার আবেগকে লাশ দিয়ে চালিত করে। শহীদের নামে গুজব তৈরি করে, আগুন লাগানো হয় গণতন্ত্রের শবদেহে। তারপর আসে সেনাশাসনের মতো শীতল নিস্তব্ধতা।
এই শীতলতা ভাঙে হঠাৎ জামালপুরের এক বাজারে। ব্যাগ খুলে পড়ে থাকে পাঁচটা খুলি।
কঙ্কাল নিরব হয়, কিন্তু ইতিহাস নয়। প্রশ্ন জাগে—এরা কারা? কবে মারা গেল? কে মেরে ফেলে রেখেছিলো স্কুলব্যাগে করে? আর কী উদ্দেশ্যে? খুনটা নিশ্চয় কোনো খুনীর একক সিদ্ধান্ত ছিল না। এই খুলি একা একা আসে না—এর সঙ্গে থাকে প্রোপাগান্ডার রূপরেখা, ক্ষমতার পেছনের অন্ধকার ইঞ্জিন, আর রাষ্ট্রীয় মিথ্যার ল্যাবরেটরি।
এটা কি জুলাই দাঙ্গাবাজদের হাতে নিহত সেই লোকজন, যাদের হত্যা করে পরে শহীদের লিস্টে ঢুকিয়ে 'রাষ্ট্রীয় মিথ্যাকে' প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে? প্রশ্ন ওঠে। এবং এসব প্রশ্ন যদি ভুল হয়, তাহলে কেন রাষ্ট্র এখনো নীরব? তদন্ত কোথায়? ডিএনএ টেস্ট? প্রমাণ? তথ্য? না কি সবটাই চাপা পড়বে ব্যাগের চেন বন্ধ করে?
ইতিহাস বলছে, সব স্বৈরতন্ত্রের শুরু হয় একটি নির্দিষ্ট মিথ্যার ভিতর দিয়ে। কখনও তা হয় "ভবিষ্যতের জন্য অতীতকে ভুলে যাও" বলে, কখনও হয় "গণতন্ত্র বাঁচাতে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ দরকার" বলে।
বাংলাদেশে সেটা ঘটেছে একাধিকবার। একাত্তরের গণহত্যা, ৭৫-এর হত্যাযজ্ঞ, ২০০৭-এর সেনাসমর্থিত সরকার—সবখানেই "মানবতার রক্ষার নামে" সত্যকে গুম করা হয়েছে, আর লাশ ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক রং মাখানোর তুলি হিসেবে।
আজকের জামালপুর সেই ধারাবাহিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
জামালপুরের স্কুলব্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মৃত মানুষেরাও কোনোদিন পুরোপুরি মরে না। তারা খুলি হয়ে ফিরে আসে, স্কুলব্যাগে, বাজারে, কিংবা কোনো রাষ্ট্রীয় মিথ্যার দেয়ালে।
সেই খুলি দেখে আমরা চমকে উঠি, কারণ আমরা ভুলে যেতে চেয়েছিলাম। আমরা বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম গল্প, তত্ত্ব, শহীদ তালিকা, রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিং। কিন্তু একমুঠো হাড় সব গল্প পেছনে ফেলে বলে—"সত্য চাপা পড়ে না। সত্য হাড়গোড় হয়ে ফিরে আসে।"

22 Comments
শেখ মুজিবের বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই
ReplyDeleteইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই আমরা বিজয়ী হব।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ✊✊
সমন্বয়কদের দুর্নীতি নিয়ে বিশ্বমিডিয়ার ভাইরাল লিংক:
ReplyDeletehttps://www.facebook.com/share/r/1A5aFkhk6M/
জুলাই সন্ত্রাসীদের বিচার চাই। দেওয়ানগঞ্জের মানুষের নিরাপত্তা চাই। একটি অহিংস রাজনীতি মুক্ত দেওয়ানগঞ্জ চাই মানুষের জান মালের নিরাপত্তা চাই। মানুষের জীবনের মূল্য চাই।এই খুলি গুলো কোনো না কোনো মানুষের তাদের জীবনের মূল্য কোথায়?
ReplyDeleteইউনুস হঠাও দেশ বাঁচাও শেখ হাসিনার সরকার বার-বার দরকার জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
ReplyDeleteমনে রাখবেন আওয়ামিলীগ ছাড়া এই দেশ নিরাপদ রাখতে পারবেনা,, তাই শেখ হাসিনা সরকার বারবার দরকার
ReplyDeleteকিম জং ইউনুস এর শাসন চলেছে
ReplyDelete
ReplyDeleteইউনুস জঙ্গি এ-র দেশ
এটা আমার বাড়ির পাশের ঘটনা।
ReplyDeleteযার পাপের ফল, তাকেই পেতে হবে।
ReplyDeleteইউনুস হঠাও দেশ বাঁচাও
ReplyDeleteদেশটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এই রাজাকারের দলেরা
ReplyDelete
ReplyDeleteকিম জং ইউনুস এর শাসন চলেছে
আল্লাহ ভালো জানেন বাংলাদেশে কি হচ্ছে।
ReplyDeleteজন্ম মৃত্যু বিয়ে এই তিনটি সম্পুর্ণ মহান আল্লাহর হাতে- এ কথা বলে আমাদের ধর্মের অমীয় বাণী। অথচ আমরা মানুষেরা তুচ্ছ কারণে অবলীলায় জীবন নেয়ার আনন্দে মেতে উঠি। নিজে অপরাধ করি, কিন্তু নিজেকে অপরাধী মনে করি না। অন্যকে অপরাধ করতে দেখলে তাকে অপরাধী আখ্যা দেই। একদল অপরাধীকে বাঁচানোর জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করে, সত্যকে মিথ্যার সাথে জড়িয়ে জগাখিচুড়ি তৈরি করি। ফলে অপরাধীর শাস্তি হয় না। শুধু আল্লাহর উপরে দায়িত্ব দিয়ে ছেড়ে দেই। আমরা কখনও নতুন কোন জীবন সৃষ্টি করতে পারি না। জানিনা এর শেষ কোথায়!
ReplyDeleteজয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
ReplyDeleteশেখ মুজিবের বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই
ReplyDeleteইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই আমরা বিজয়ী হব
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
ReplyDeleteআমার পাশের গ্রামের ঘটনা।
ReplyDeleteআওয়ামী লীগ ছাড়া এই বাংলাদেশের ভালো কেউ চায় না
ReplyDeleteজামাত শিবির রাজাকার নিপাত যাক
ReplyDeleteশেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ রাজাকারের বাচ্চারা ঠাঁই নাই জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু 🛶🇧🇩
ReplyDelete😭
ReplyDelete